গাজীপুর থেকে চোরাইকৃত অটো রিক্সা পার্টসসহ কার্ভাড ভ্যান নোয়াখলীতে উদ্ধার গ্রেফতার-২

স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জয়দেবপুর এলাকার লোমিনাস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চুরি যাওয়া কার্ভাড ভ্যান ভর্তি ২২টি অটো রিক্সা তৈরির সম্পূর্ণ পার্টস নোয়াখালী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পূবাইল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পার্টস গুলো উদ্ধার এবং এঘটনায় জরিত দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, ফেনীর দাগনভূইয়া থানার চন্দ্রপুর এলাকার মিজান উদ্দিনের ছেলে কাভার্ডভ্যান চালক শামীম (২৪) এবং লক্ষীপুরের রামগতি থানার চরসিদা এলাকার হারুনের ছেলে মিল্লাদ (২০)।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান জানান, মেট্রোপলিটন সদর থানার কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউড সংলগ্ন পুরাতন চন্দ্রা সিমেনা হলের সামনে অটো রিক্সা তৈরির ফ্যাক্টরির একটি প্রতিষ্ঠান লোমিনাস এন্টারপ্রাইজ। গত ১ নভেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানের ২২টি অটো রিক্সার সম্পূর্ণ পার্টস রাজবাড়ী জেলা সদরে ডিলালের কাছে পৌঁছানো জন্য বনফুল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে একটি কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করে।
ওই কার্ভাড ভ্যানে কারখানার মেকানিক সুজন পার্টস ভর্তি করে রাজবাড়ী যাওয়ার পথে মেট্রোপলিটন পূবাইল থানা এলাকায় ভ্যান থেকে নেমে প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে চালক মালামালসহ কভার্ডভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পথিমধ্যে কভার ভ্যানের ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার, চালকের ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গায়ে “নিউ বাংলাদেশ কার্গো লিমিটেড” লিখে রাজবাড়ীর দিকে না গিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১ নভেম্বর কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন বাদী হয়ে পূবাইল থানায় মামলা করেন। পরে এসআই জাহাঙ্গীর আলম এবং এসআই জামিল উদ্দিন বিভিন্ন সূত্র ধরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এলাকা থেকে কার্ভাড ভ্যানের ড্রইভার শামীমকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্য মতে নোয়াখালী জেলার সুধারাম মডেল থানা এলাকা থেকে চোরাইকৃত অটো রিক্সাগুলি উদ্ধার এবং মিল্লাদকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ড্রাইভার শামীম জিজ্ঞাসা বাদে স্বীকার করেছে ইতিপূর্বে একইভাবে আরো চুরি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাদের ব্যবহৃত কার্ভাড ভ্যানটির গাংের নাম্বার এবং নাম চুরি করার পর মুছে নতুন নাম্বার এবং লিখে নেয়। চুরির পূর্বে ওই কার্ভাড ভ্যানটির গায়ে নাম লেখা ছিল শিরিন পরিবহন। এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরাইদল। এদের অন্য সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *