যার বৈশিষ্ট হলো একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয় নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

স্টাফ রিপোর্টার :
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয় নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন করেছে। যার বৈশিষ্ট হলো একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না। প্রতিটা গাছে ফলন হবে ৬০ থেকে ৭০ কেজি। ফলের মিষ্টতাও হবে অনেক বেশী। পাকার পরও সহজে পঁচন ধরবে না। বিশ^বিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক মরহুম ড. এমএ খালেক মিয়া ও অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী পেঁপের এই নতুন জাত উদ্ভাবন করেন।
শনিবার গাজীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^ বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে একদল কৃষিবিদ ও সাংবাদিক সরেজমিন মাঠ পরিদর্শনে ভালুকার চাঁনপুর এলাকায় যায়। সেখানে স্থানীয় পেঁপে চাষীদের সাথে সাংবাদিকদের কথা হয়। পেঁপে চাষি খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও খন্দকার রোমান হোসেন জানান, পূর্বে তারা দেড় একর জমিতে আঁখের চাষ করে বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতেন। এখন বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত নতুন জাতের পেঁপের চাষ করে একই পরিমান জমিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করছেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার ফলের আড়ৎদার মো. নান্নু মিয়া জানান, ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম, রোমান হোসেনসহ অনেকের বাগানের পেঁপে নিয়ে তিনি যাত্রাবাড়ি তার নিজ আড়ৎ থেকে পাইকারী বিক্রি করেন। এই নতুন জাতের পেঁপের একটি বৈশিষ্ট হলো সহজে পঁচে না। পাকার পরও দুই/তিন দিন শক্ত থাকে। ফলে সুবিধা হলো ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।
অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, বানিজ্যিক ভাবে পেঁপের কোন জাত ছিলনা। যাতে একজন কৃষক পেঁপে চাষ করতে পারে। সেই ধারণাটা মাখায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রয়াত কৃষিবিদ ড. এমএ খালেক মিয়া’র নেতৃত্বে আমরা গত পাঁচ বছর ধরে দেশীয় জামপ্লাজম ব্যবহার করে পেঁপের এ নতুন জাতটি উদ্ভোবন করেছি। যার মূল উদ্দেশ্য ও প্রধান বৈশিষ্ট হলো একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না। প্রতিটি গাছেই ফল ধরবে, প্রত্যেকটি গাছ বছবে ৬০ থেকে ৭০ কেজি পেঁপে ফলন দিবে। ফলে আমাদের কৃষকেরা পেঁপে চাষ করে লাভবান হবে।
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^ বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা আগে দেখেছি যে পেঁপের জাত গুলো কৃষকরা লাগাতো, সে জাত গুলো প্রতি পিটে কমপক্ষে তিনটি করে চারা লাগাতে হতো। তার পরও দেখা যেতো যে, এতো সার পানি ও শ্রম দেয়ার পরও ওই তিনটি গাছই কেটে ফেলতে হচ্ছে। কোন ফল ধরছে না।
সেটি মাথায় নিয়েই আমাদের বিজ্ঞানীরা গভেষণা শুরু করেন। বিশ^বিদ্যালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। মাঠ পর্যায়ে এ ফলটা বেচে থাকোক, কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে যাক, সে কাজ টুকু করার জন্য আমরা সুপ্রীম সীড কোম্পানির মাধ্যমে আমরা তাদের পরিচিত কৃষকদের মাঝে আগে বীজটা দেই। তাদের সুযোগ্য গবেষকরা এই বীজটাকে পিউরিফাই করেছে এবং বীজের গুণগত মান যাতে ঠিক রাখে সেই ব্যপারে আমরাও তাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের কৃষক ভাইদের জন্য পেঁপের চাষের একটা সুন্দর দিন সামনে অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *