বরিশালে হত্যা মামলায় দুই সহোদরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ১৯ আগস্ট ২০

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে বিরোধের জের ধরে ডাল ব্যবসায়ী মোতাহার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পাশাপাশি অপর এক আসামিকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার বরিশালের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহাবুব আলম এ রায় প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান রিয়াজ।

যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই সহোদর হলেন- বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর এলাকার মৃত জয়নাল সিকদারের ছেলে বাবুল সিকদার ও জাহাঙ্গীর সিকদার। এছাড়া ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অপর দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন একই এলাকার বাসিন্দা মামুন।

আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান রিয়াজ মামলার এজাহারের বর্ণনা দিয়ে জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ২০০১ সালের ২৭ মার্চ দুপুরে মিয়ারহাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় ডাল ব্যবসায়ী মোতাহার হাওলাদার, মন্টু হাওলাদার ও মুজাহার হাওলাদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে দণ্ডপ্রাপ্তরা।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ও পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৭ মার্চ রাত ১০টায় শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মোতাহার হাওলাদার।

এ ঘটনায় পর দিন ১৯ জনকে নামধারী ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত মোতাহার হাওলাদারের ভাই মো. আজাহার হাওলাদার।

আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বুধবার এ রায় প্রদান করেন। আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান রিয়াজ জানান, আসামিদের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাবুল মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আর দেড় যুগ পর ভাই হত্যা মামলার রায় পেয়ে সন্তোয় প্রকাশ করলেও মামলার আইনজীবী ও বাদীর পরিবার বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে চলে যাওয়ায় সব আসামির একই ধরনের সাজা হলে বেশ ভালো হতো।
অপরদিকে বিবাদী পক্ষের দায়ের করা অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার একটি মামলায় নিহত মোতাহারের ভাই সিরাজ ও চাচাতো ভাই মোতালেবকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওই মামলার বাদী জয়নব বিবি নামে এক নারী বলে জানিয়েছেন নিহত মোতাহারের ভাই মো. আজাহার হাওলাদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *