পদ্মার ভাঙনে জাজিরার ১৯৭ পরিবার গৃহহীন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

পদ্মার প্রবল স্রোতে জেলার জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝির ঘাটসংলগ্ন ওকিলউদ্দিন মুন্সিকান্দি, আলমখারকান্দি ও পৈলান মোল্যাকান্দি গ্রামে গত কয়েক দিনে পদ্মার ভাঙনে ১৯৭ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এদিকে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৪টি পৌরসভা ও জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার ৫০টি গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এছাড়াও শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতেও ২০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার প্রায় ৪ হাজার ৬৬৬ হেক্টর ফসলি জমি।

প্লাবিত এলাকায় খাদ্য, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বানভাসিরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে উঁচু রাস্তা ও ব্রিজে আশ্রয় নিয়েছে। ঢাকা- শরীয়তপুর মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়ে সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এখনও মোটরসাইকেল, সিএনজি, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট কিছু যানবাহন চলাচল করলেও অব্যাহত পানি বৃদ্ধি পেলে যে কোন সময় মঙ্গলমাঝির ঘাট ও কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের সাথে জেলা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এদিকে পানিবন্দি কিছু কিছু এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফ উজ্জামান ভুইয়া বলেন, প্রবল স্রোতের কারণে জাজিরার মঙ্গলমাঝির ঘাটের পূর্বপাশের ৩টি গ্রামে পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনে পদ্মার তীরবর্তী ৩টি গ্রামের প্রায় ২শ’ পরিবার গৃহহীন হয়ে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

ভাঙনকবলিত লোকজনসহ বন্যাকবলিত এলাকায় আমরা এ পর্যন্ত ২৬০ টন চাল ও ৫শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিরণ করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *